বইটির বিবরণ
এই উপন্যাসিকা ঋষিকুমার নামে এক কিশোরের বিচিত্র রোমাঞ্চকর অভিযানের কাহিনি। প্রকৃতির সমস্ত প্রাণীর প্রতি তার অসীম দরদ। বাড়ির ছাদে বহু যত্ন ও ভালোবাসায় গড়া তার নিজের একটি চিড়িয়াখানা আছে, যেখানে ফড়িং, উচ্চিংড়ে, চামচিকে, আরশোলা, শালিকছানাদের বাস।
একদিন সকালে নিজের মনে ফড়িং ধরার সময় তাকে অপহরণ করে একদল ছেলেধরা। সে ভুলবশত ভাবে তারা বুঝি চম্বলের ডাকাত এবং অ্যাডভেঞ্চারের লোভে তাদের সঙ্গে যেতে আপত্তি করে না। কিন্তু যখন শোনে ওই ডাকাতরা হরিণ মেরে খায়, তখন তাদের প্রতি চরম ঘৃণাবশত সে বাড়ি ফিরে যেতে চায়। বলে ওঠে, 'সাবধান, যারা হরিণ মারে, তারা যেন আমাকে না ছোঁয়!' কিন্তু ছেলেধরারা তাকে জোর করে বস্তাবন্দি করে ফেলে।
ঋষিকুমার কি ছেলেধরাদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে আসতে পারল তার নিজের বাড়িতে? সেই অভিযান এবং এ রকম আরও নানা রোমাঞ্চকর ঘটনায় ভরা তার সহজসরল জীবনের কথাই এই আখ্যানের মূল উপজীব্য।
লেখকের পরিচিতি

ভারতের সাহিত্য অকাদেমি-সহ একাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত সব বয়সের ছোটোদের কয়েকটি বিখ্যাত বইয়ের লেখক। তাঁর রচিত শাদা ঘোড়া, ঋষিকুমার ও হীরু ডাকাত প্রথম প্রকাশের সুবর্ণজয়ন্তী পার করে আজও বাঙালির ঘরে ঘরে সমান জনপ্রিয়। বড়োদের জন্যও একাধিক উপন্যাস ও কবিতার বই লিখেছেন অমরেন্দ্র চক্রবর্তী। অ্যান্টার্কটিকা, আফ্রিকা, আলাস্কা-সহ প্রায় সারা পৃথিবী ঘুরে তাঁর তোলা ভ্রমণচিত্রগুলোও বিশেষ জনপ্রিয়।
কবিতা-পরিচয়, কর্মক্ষেত্র, ভ্রমণ, কালের কষ্টিপাথর, ছেলেবেলা প্রভৃতি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর একাধিক বই বিভিন্ন ভারতীয় ভাষা ছাড়াও ইংরেজি, জার্মান, মোঙ্গোলীয়, জাপানি, জর্জিয়ানসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।