বইটির বিবরণ
১৯৭১ সাল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেপ্টেম্বরের দিকে পাকিস্তান ভেবেছিল, যুদ্ধে তাদেরই জয় আসন্ন। ওই সময় অবস্থানগত কারণে পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালি সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্যকে শর্তসাপেক্ষে ছুটি দেওয়া হয় আর বাকি সৈনিক ও অফিসারদের রাখা হয় কার্যত দায়িত্বহীন। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে পুরো যুদ্ধচিত্র পালটে যায়। সীমান্তে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ায় পাকিস্তান। কোনো কোনো বাঙালি সেনা অফিসারকেও বাধ্য করা হয়েছিল সেই যুদ্ধে অংশ নিতে। যুদ্ধে ভারতের শত শত সৈন্যকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে পাঞ্জাব প্রদেশের লায়ালপুর জেলে রাখা হয়। একটা পর্যায়ে সেই একই জেলে বন্দি হয়ে পড়েন প্রায় ২৭০০ বাঙালি সামরিক সদস্য। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আশায় বাঙালী সেনা ও নৌবাহিনীর কয়েকজন সদস্য মিলে এক অবিশ্বাস্য অভিযান শুরু করেন। পাকিস্তানি সেনা ও অন্য বাঙালি বন্দিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রায় ১৮৫ ফুট দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ খনন করেন। এই অভিযানে যুক্ত সদস্যদের মধ্যে কেউ পেরেছেন স্বদেশের মাটিতে ফিরতে, কেউ সুযোগ পেয়েও পালাতে ব্যর্থ হয়েছেন, আবার কেউ মুখোমুখি হয়েছেন কোর্টমার্শালের। ঐতিহাসিক এসব ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সদস্যদের প্রত্যক্ষ বয়ানে রচিত গ্রন্থ লায়ালপুর জেল এস্কেপ।
লেখকের পরিচিতি

স্বরলিপি প্রকৃত নাম: রাশিদা খাতুন। প্রকাশিত গ্রন্থ: নিষিদ্ধ মুদ্রার ফসিল (গল্পগ্রন্থ) মৃত্যুর পরাগায়ন (কাব্যগ্রন্থ) আয়ুর আমিষ (কাব্যগ্রন্থ) নির্বাসিত দৃশ্যের অরণ্য (গল্পগ্রন্থ) লেখালেখিতে অর্জন: ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার