বইটির বিবরণ
২০২৪ সালে লেখক ইউরোপ ভ্রমণে বের হন। তাঁর ভ্রমণসঙ্গী ছিলেন দুজন। জার্মানি, ইতালি ও পোল্যান্ডে মোট বারো দিন তাঁরা ভ্রমণ করেন। কখনো এক রাত, কখনো কয়েক ঘণ্টা- এমন করে ছোটোবড়ো বারোটি শহরে ভ্রমণ করেন। এই ভ্রমণে লেখক দেখেছেন ইতালির আরবেরোবেলোতে প্রাগৈতিহাসিক বাড়িঘর, লাতিনায় মুসোলিনির অস্তিত্ব, আবার কর্মঠ প্রবাসী নজরুলের তিলে তিলে গড়ে তোলা সাম্রাজ্য। জার্মানির কাসেলে পাহাড়ের ওপর প্রকৌশলীর মুনশিয়ানায় স্থাপিত হারকুলেসের সুউচ্চ বিস্ময়কর ভাস্কর্য, হ্যামেলিনের বংশীবাদকের স্মৃতি এবং কোনো এক জার্মান সম্রাটের বিলাসবহুল স্নানঘরে স্থাপিত প্রবাসী বোরহানের বোলিং হোটেল। আরও দেখেছেন, পোলিশ জাতির পুনর্জাগরণের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ এবং পরিবর্তিত জীবনধারা। পরানের গহিন ভেতরে বেজে উঠেছে প্রবাসী বাঙালিদের কষ্টের দৃশ্য। মাথার ঘাম পায়ে ফেলা এই প্রবাসীরা স্বপ্ন দেখেন সোনার বাংলাদেশের। সেই স্বপ্নের সঙ্গী হয়ে শব্দের কথামালায় লেখক সাজিয়ে তুলেছেন ইউরোপে বারো রকম দিন গ্রন্থটি। বিচিত্র মানুষ, বিচিত্র ঘটনার বারো রকম দিনের বর্ণনা পাঠককে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে।
লেখকের পরিচিতি

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মাহফুজুর রহমান ছিলেন একজন পেশাদার কূটনীতিক। তিনি পোল্যান্ড, ইউক্রেন ও মলডোভায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্থাপত্যে স্নাতক এবং অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয় হতে কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও হাওয়াইয়ের এশিয়া প্যাসিফিক সেন্টারে নিরাপত্তা ও শান্তি বিষয়ে একাধিক কর্মশালা ও অনুশীলন সমাপ্ত করেছেন। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল ও মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ছাত্র তিনি। জন্ম ১৯৬১ সালে। দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন পত্রিকা, সাময়িকী ও গবেষণা সাইটে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনীতি নিয়ে যেমন লিখেছেন, তেমনি লিখে চলছেন নন্দনতত্ত্ব ও চিত্রশিল্প নিয়ে নিবন্ধ কিংবা ভ্রমণকাহিনি। বিচিত্র সব উপাদানে তাঁর ভ্রমণকাহিনি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। তাঁর গদ্যশৈলী সহজ ও সাবলীল।